Satyajit Ray Biography in Bengali | সত্যজিৎ রায়ের জীবনী

সত্যজিৎ রায় ছিলেন একজন ভারতীয় শিল্পী, চিত্রনাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং যিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসাবে খ্যাত এবং তিনি সিনেমায় বেশিরভাগ ভারতীয় গল্প বলার জন্য দায়বদ্ধ ছিলেন। এই পোস্টে আপনি সম্পূর্ণ বিবরণ পাবেন the biography of Satyajit Ray in Bengali.

সত্যজিৎ রায় ভারতীয় চলচ্চিত্রের নতুন দিগন্তের দিশারী। তিনি তাঁর দুর্দান্ত কাজের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রকে গর্বিত করেন। চলচ্চিত্র পরিচালক রূপে তিনি বিশ্ব। তাঁর জীবনে, তিনি ব্যাপকভাবে স্বীকৃত ‘পথের পাঁচালী’ দিয়ে শুরু করে ফিচার ফিল্ম, ডকুমেন্টারি এবং শর্টস ফিল্ম সহ ৩৬ টিরও বেশি চলচ্চিত্র পরিচালিত করেন।

চলচ্চিত্র ছাড়াও তিনি কথাসাহিত্যিক, প্রকাশক, চিত্রকর, ক্যালিগ্রাফার, গ্রাফিক ডিজাইনার এবং চলচ্চিত্র সমালোচক হিসাবে কাজ করেছিলেন। তিনি অসংখ্য বইয়ের কভার এবং ম্যাগাজিনের কভার ডিজাইন করেছিলেন।

Birth, Childhood & Education Of Satyajit Ray –

সত্যজিৎ রায়ের জন্ম ২ মে ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে হয়েছিল। তার পিতা বাংলা সাহিত্যে ছড়ার রাজা সুকুমার রায় এবং তার মাতা সুপ্রভা রায়। সত্যজিৎ রায়ের পিতামহ বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।

তিনি বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং সেখান থেকে ম্যাট্রিক পাস করে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে অর্থনীতি তে বিএ পাস করার পর ১৯৪০ খিষ্টাব্দে শান্তিনিকেতনে শিল্পশিক্ষা জন্য গমন করেন। শিল্পী, সাহিত্য এবং সংগীতশিল্পীদের একটি বিশিষ্ট পরিবার থেকে আগত সত্যজিৎ রায়, শৈশব থেকেই বিনোদন জগতে বড় করার লক্ষণ দেখিয়েছে। 

পড়তে পারেন: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী। 

Career & Works of Satyajit Ray –

তাঁর প্রথম চাকরির প্রোফাইলটি একজন ব্রিটিশ-পরিচালিত বিজ্ঞাপন সংস্থায় জুনিয়র ভিজ্যুয়ালাইজার হিসাবে ছিল। তারপর তিনি ডি কে গুপ্তার সাথে সিগনেট প্রেসে কাজ করেছিলেন এবং বিভিন্ন বইয়ের কভার ডিজাইন তৈরি করেছিলেন। এই সময়েই সিগনেট প্রেসে তিনি শিশুদের উপন্যাস ‘পথের পাঁচালী’ নিয়ে কাজ করেছিলেন যা তাকে এতটাই অনুপ্রাণিত করেছিল যে এটি পরে তাঁর প্রথম চলচ্চিত্রের জন্য বিষয় হয়ে ওঠে।

১৯৪৭ সালে তিনি চিদানন্দ দাশগুপ্তের সাথে কলকাতা ফিল্ম সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। সংস্থাটি বিদেশী চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেছিল যার বেশিরভাগই চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক হিসাবে তাঁর পরবর্তী কেরিয়ারের জন্য একটি গাইড শক্তি হয়ে ওঠে।

১৯৪৯ সালে, তিনি তাঁর দীর্ঘকালীন প্রিয়তম বিজয় দাসের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির একটি ছেলে হয় তার নাম দিয়েছিলো সন্দীপ, তিনিও চলচ্চিত্র নির্মাণে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন।

১৯৬১ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের সাথে তিনি বাচ্চাদের ম্যাগাজিন সন্দেশকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। তথ্যবহুল এবং বিষয়বস্তুতে মজাদার এই ম্যাগাজিনটি তাকে লেখার এবং চিত্রণে একটি ক্যারিয়ার শুরু করতে সহায়তা করেছিল যা তার পরবর্তী জীবনের ভাল অংশের জন্য তাঁর কাছে থেকে যায়।

১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘চারুলতা’ তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে দক্ষ চলচ্চিত্র হয়ে ওঠে। ছবিটি ব্যাপক সমালোচনামূলক স্বীকৃতি এবং দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে। ছবিটি তাঁর কেরিয়ারের একটি ম্যাগনাম অপস হিসাবে বিবেচিত হয়েছে।

Pather Pachali Movie –

সত্যজিৎ বাল্যকাল থেকেই ফোটোগ্রাফিতে অনুরক্ত ছিলেন। যখন তিনি জীবিকার প্রয়োজনে বইয়ের প্রচ্ছদ ও ভিতরের চিত্রাকণকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন, এই সময়েই তিনি সচেষ্ট হলেন অমর কথাশিল্পী বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসকে চলচ্চিত্রায়িত করার জন্য।

অনেক অর্থকষ্ট এবং বাধার পর তিনি ‘পথের পাঁচালী’ সম্পূর্ণ করেন। ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দের ২৬ অগাস্ট ছবিটি মুক্তি লাভ করেন কলকাতায়। পথের পাঁচালীর অভিনবত্ব প্রয়োগশিল্পী ও মানবিক আবেদন দেশবাসীকে মুগ্ধ করেছিল। এর দ্বারা ভারতীয় চলচ্চিত্র এক নতুন প্রতিভার আবির্ভাব গটেছে। ‘পথের পাঁচালি’ ওই বছরের রাষ্ট্রপতির স্বর্ণ ও রৌপ্য পদক লাভ করেছিল।

‘পথের পাঁচালী’ তাঁর কেরিয়ারকে দুর্দান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করার সময় তাঁর পরবর্তী ছবি ‘অপরাজিত’ সংস্কৃত চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসাবে তাঁর অবস্থান গড়ে তুলেছিল। এমনকি এটি ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে তাকে সোনার সিংহ অর্জন করিয়েছেন। পথের পাঁচালী মোট ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছিলেন।

Awards & Achievement Of Satyajit Ray –

সত্যজিৎ রায় তাঁর বিপুল সৃষ্টিসম্ভারের জন্য লাভ করেছিলেন দেশ বিদেশের অসংখ্য পুরস্কার – গোল্ডেন লরেল, গোল্ডেন বিয়ার, গোল্ডেন শীল অসংখ পুরস্কার প্রভৃতি। চলচ্চিত্র শিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতস্বরূপ তাঁকে দেওয়া হয়েছে কলকাতা ও বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি লিট উপাধি, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘দেশিকোওম ‘ উপাধি।

১৯৮৫ সালে, তিনি মর্যাদাপূর্ণ দাদাসাহেব ফালকে পুরষ্কার পেয়েছিলেন এবং দু’বছর পরে ফ্রান্সের সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ পুরষ্কার, ‘লেজিওন অফ অনার’ পেয়েছিলেন।

ভারত সরকার তাকে ১৯৯২ সালে সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান, ‘ভারতরত্ন’ দিয়েছিল। একই বছর তিনি মৃত্যুর ঠিক কয়েকদিন আগে একাডেমি অফ মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের দ্বারা সম্মানসূচক অস্কার লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন।

Literature Creation of Satyajit Ray –

কেবল চলচ্চিত্র রূপায়ণে নয়, সত্যজিৎ রায় তাঁর অসামান্য সাহিত্যপ্রতিভাও স্বাক্ষর রেখেছেন তাঁর সাহিত্য সিষ্টিসম্ভারের মধ্যে, যার মধ্যে আছে ‘বাদশাহী আংটি’, ‘সোনার কেল্লা’, ‘প্রফেসর শংকু’, ‘ফটিকচাঁদ’ প্রভৃতি গ্রন্থ।

আরও পড়ুন: জগদীশ চন্দ্র বসুর জীবনী।

তিনি বাংলা গোয়েন্দার কাহিনী নতুন করে সৃষ্টি করেছেন, তার মধ্যে এনে দিয়েছেন বিজ্ঞানের স্পর্শ। জাদু কাহিনী, ভৌতিক কাহিনী বা কল্পবিজ্ঞান রচনাতেও তিনি যথেষ্ট পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তার সাহিত্য ছোটো-বড়ো সকলকেই আকর্ষণ করেন।

Death Of Satyajit Ray –

১৯৯২ খ্রিস্টাব্দের ২৩ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা এবং বাঙালি জাতি তথা সমগ্র ভারতবর্ষ হারিয়েছে এক অমূল্য সম্পদ। তিনি চিরজীবী হয়ে রয়েছে তাঁর অসামান্য সৃষ্টি সোমবারে।

সত্যজিৎ, বাংলা এবং বাঙালির জন্য যে অবদান রেখে গেছেন, তার জন্য তিনি অবিস্মরনীয় হয়ে থাকবেন। তিনি বাঙালিকে শিকিয়েছেন, নিজেকে বারবার ভাঙাগড়ার মধ্যে দিয়েই সত্যিকার মহৎ শিল্পী সৃষ্টি করা যাই। চলচ্চিত্র, সাহিত্য, সংগীত, চিত্রকলা প্রভৃতি বিভিন্ন ক্ষেত্রেই নবনব চিন্তায় উজ্জ্বল সত্যজিৎকে আবিষ্কার করে বিস্মিত হতে হয়।


আশা করি আপনি “Biography Of Satyajit Ray In Bengali আর্টিকেলটি পছন্দ করেছেন। যদি আপনার কাছে আর্টিকেল তা ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনার Social Media তে Share করোন। Regular Update এর জন্য আমাদের Facebook Page ফলো করোন।

Leave a Comment

0 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap