Rabindranath Tagore Biography in Bengali | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনী

Biography Of Rabindranath Tagore In Bengali

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলো বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ইত্যাদি। তাঁর সৃষ্টি শিল্পের দ্বারা তিনি শুধু দেশবাসীকে নয়, সারা বিশ্বকে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতীয় সাহিত্য, সংগীত এবং শিল্পের ক্ষেত্রে দুর্দান্ত অবদান রেখেগেছেন।

তিনি ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রচনা করেছেন, এবং সে হয়েগেলেন বিশ্বের এমন একজন কবি যিনি দুটি দেশের জাতীয় সঙ্গীত রচনা করেছেন।  তিনি এশিয়াকে প্রথম সর্বশ্রেষ্ঠ সন্মান ‘নোবল’ এনে দিয়ে গৌরবের আসনে প্রতিষ্ঠীত করেন। 

কেবল তাই নয়, প্রথম বিশ্বযুদ্বের পর হতাশাজনক প্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত করে, বিশ্ববাসীকে নতুন আশা দিয়েছিলেন তার ‘গীতাঞ্জলি ‘ কাব্য। রবীন্দ্রনাথ আমাদের কাছে এক বিস্ময়কর প্রতিভা।

এই পোস্টে আপনি সম্পূর্ণ বিবরণ পাবেন The Biography Of Rabindranath Tagore In Bengali, About Rabindranath Tagore In Bengali.

Birth & Childhood Of Rabindranath Tagore –

১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ), কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম হয়। সময় ছিল রাত ২ টো বেজে ২৮ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড। 

কবির পিতার নাম হলো মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতা সারদা দেবী। তাঁর পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর ছিলেন সেকালের বিখ্যাত ধনী ব্যবসায়ী। রবীন্দ্রনাথ তাঁর পিতা-মাতার চতুর্দশতম সন্তান। 

যখন রবীন্দ্রনাথ খুব ছোট ছিলেন তখন তিনি তার মাকে হারিয়েছিলেন এবং তাঁর বাবা ছিলেন একজন ভ্রমণকারী, তাই বেশিরভাগই তাদের বাড়ির দাস-দাসীরা তার লালনপালন করতো। ঠাকুরবাড়ির ঐতিহ্যশীল শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিতে সুপরিপুষ্ট পরিবারে শিশু রবীন্দ্রনাথ বড়ো হতে থাকেন।  

মাত্র ৮ বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন এবং ১৬ বছর বয়স থেকে তিনি শিল্পকর্ম রচনা শুরু করেন। 

১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে কয়েকমাসের জন্য রবীন্দ্রনাথ তার পিতার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করতে থাকেন। এই ভ্রমণের সাহায্যে তিনি শিখ ধর্মের সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছিলেন এবং এই ধর্মের অনেক কবিতা রচনা করেন। 

তিনি কালিদাসের ধ্রুপদী কবিতা দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং তাঁর নিজস্ব ধ্রুপদী কবিতা লিখতে শুরু করেছিলেন। ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে যখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৬, তিনি ‘ভিকারিনী’ ছুটগল্পটি লিখেছিলেন এবং ১৮৮২ সালে ‘সন্ধ্যা সংগীত’ কাব্যগ্রন্থ লিখেছিলেন।

Educational Life Of Rabindranath Tagore –

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছাত্র জীবন শুরু হয় ওরিয়েন্টাল সেমিনারি স্কুল থেকে। এ ছাড়া বেঙ্গল একাডেমি ও সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলেও রবীন্দ্রনাথ কিছুদিন পড়াশুনা করেন। 

বারবার স্কুল বদলের কারণে স্কুল জীবন তার ভালো লাগতো না। চার দেয়ালের বদ্ধ ঘেরাটোপে পড়াশোনায় তিনি মন বসাতে পারে না। এই কারণে তিনি বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। 

তবে তার বিদ্যাচর্চা কখনো থেমে থাকে না। বাড়িতে গৃহশিক্ষকের কাছে রবীন্দ্রনাথের পড়াশুনা চলতে থাকে। ফলে গুনগত মানের বিচারে রবীন্দ্রনাথের শিক্ষামান প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে বহুগুন এগিয়েছিল।

আরও পড়ুন: 100+ Inspiring Quotes Of Rabindranath Tagore In Bengali.

১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের ২০ সেপ্টেম্বর ১৮ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ, তার পিতার ইচ্ছা পূরণের জন্য বেরিস্টারী পড়তে ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন। পরে তিনি লন্ডনের বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভর্তি হন, এবং সেখানে তিনি আইন অধ্যয়ন শিখতে শুরু করেন। 

তবে তিনি এখান থেকে Drop-Out হয়ে শেক্সপিয়ারের বিভিন্ন কাজ শিখেছিলেন। কিন্তু পিতার নির্দেশে পরের বছর তাকে দেশে ফিরতে হয়।  তার এই প্রথম বিলাতযাত্রা ও বিলাতবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে রবীন্দ্রনাথ লেখেন য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র। 

Personal Life Of Rabindranath Tagore –

১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যশোহর জেলার বেণীমাধব রায়চৌধুরীর কন্যা ভবতারিণী দেবীকে বিবাহিত করেন। ঠাকুরবাড়িতে এসে ভবতারিণী দেবীর নতুন নামকরণ হয় মৃণালিনী দেবী। 

রবীন্দ্রনাথ এবং মৃণালিনী দেবীর পাঁচজন সন্তান হয়, তাদের নাম – রেনুকা ঠাকুর, শমীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মীরা ঠাকুর, রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মধুরিলতা ঠাকুর।

তাদের বিবাহের পরের বছর ঠাকুরবাড়িতে বড়ো একটা দুর্ঘটনা ঘটে। রবীন্দ্রনাথের বড়ো বউঠান কাদম্বরী দেবী আত্মহত্যা করেন। 

এই কাদম্বরী দেবীই ছিলেন তার কাব্যরচনার প্রথম ও প্রধান প্ররণাদাত্রী। রবীন্দ্রনাথের প্রতি তার ছিল অসীম স্নেহ। এই মৃত্যু রবীন্দ্রনাথকে ভীষণভাবে আঘাত করে। 

Rabindranath tagore quotes in bengali

১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে পিতার আদেশে রবীন্দ্রনাথ জমিদারি দেখার ভার নেন। চলে যান শিলাইদহে, সেখান থেকে সাজাদপুর ও পরে পাতিসরে।

শিলাইদহের পদ্মাতীরে বসবাসের সময় রবীন্দ্রনাথ যে অভিজ্ঞতা লাভ করেন তার থেকেই অনেক বিখ্যাত গল্প-কবিতা রচিত হয়। শিলাইদহের উন্মুক্ত প্রকৃতি ও সহজ-সরল মানুষগুলি জমিদার রবীন্দ্রনাথের অত্যন্ত প্রিয় ছিল। 

Establishment Of Santiniketan –

রবীন্দ্রনাথের পিতা ধ্যানের জন্য একটি বিশাল জমি কিনেছিলেন এবং এর নাম দিয়েছিলেন শান্তিনিকেতন। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬৩ সালে এখানে একটি ‘আশ্রম’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে একটি উন্মুক্ত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, এটি ছিল একটি প্রার্থনা হল এবং নামকরণ করা হয়েছিল ‘মন্দির’। 

মন্দিরটাকে আবার ‘পাঠ ভবন’ ও বলা হতো এবং শুরু হয়েছিল মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী দিয়ে। এখানকার ক্লাসগুলি গাছের নীচে অনুষ্ঠিত হত এবং গুরু-শিষ্য শিক্ষার পদ্ধতি অনুসরণ করেছিল।

আরও পড়ুন: আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসুর জীবনী। 

রবীন্দ্রনাথ পশ্চিমবঙ্গে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটি দুটি ক্যাম্পাস নিয়ে গঠিত, একটি শান্তিনিকেতনে এবং অন্যটি শ্রীনিকেতনে। শ্রীনিকেতন কৃষিক্ষেত্র, প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষা, গ্রাম, কুটির শিল্প এবং হস্তশিল্পের দিকে মনোনিবেশ করে।

Travels By Rabindranath Tagore –

রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বিশ্বপথিক। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে সেখানকার সাহিত্য-সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। ১৮৭৮ এবং ১৯৩২ সালের মধ্যে, রবীন্দ্রনাথ পাঁচটি মহাদেশের ত্রিশেরও বেশি দেশে পা রেখেছিলেন।

১৯১২ সালের নভেম্বর মাসে, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ শুরু করেছিলেন। ১৪ জুলাই ১৯২৭ সালে, রবীন্দ্রনাথ এবং তার দুইজন সঙ্গী চার-মাসের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যাত্রা শুরু করেছিলেন। 

রাশিয়া ভ্রমণ করে তিনি সেখানকার নবজাগরণ লক্ষ করেছিলেন। ইউরোপ এবং আমেরিকার সঙ্গে তিনি ভারতের মেলবন্দন ঘটিয়েছেন।

Love For His Homeland –

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একজন স্বদেশপ্রেমিক ছিলেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। ভারতের জাতীয় সংগীত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন এবং বাংলাদেশ এর জাতীয় সংগীত ও তার লেখা।

তাঁর অনুপ্রেরণায় তৈরী হয়েছে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অনেক কর্মসূচি।উপন্যাস, কবিতা এবং সংগীতের মাধ্যমে তিনি অনুপ্রাণিত করেছেন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের। 

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে তিনি ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গানটি গেয়ে পথপরিক্রমা করেন।

Literary Works Of Rabindranath Tagore –

রবীন্দ্রনাথ শৈশব থেকেই কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গান, পত্র, সাহিত্য, চিত্রকলা ইত্যাদি বিচিত্র দিকে তাঁর প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন।

অল্প বয়সেই রবীন্দ্রনাথ কবিতা লেখা শুরু করেন। রবীন্দ্রনাথ নিজেই জানিয়েছেন “চাকরদের মহলে যে সকল বই প্রচলিত ছিল তাহা লইয়াই আমার সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়”। 

এগারো বছর বয়সে তাঁর রচিত ‘ অভিলাষ ‘ নামে একটি কবিতা তৎকালীন বিখ্যাত পত্রিকা ‘তত্ত্ববোধিনী ‘ তে প্রকাশিত হয়। এর পর ‘কবিকাহিনী ‘, ‘ভানুসিংহের পদাবলী ‘, ‘রুদ্রচণ্ড ‘ প্রবৃতি কাব্য তিনি রচিত করেন।

কাব্যগ্রন্থ: তাঁর প্রধান কাব্যগুলি হলো – ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘চৈতালি’, ‘কল্পনা’, ‘নৈবেদ্য’, ‘খেয়া’, ‘গীতাঞ্জলি’, ‘বলাকা’, ‘পূরবী’, প্রবৃতি। এই সকল কাব্যের মধ্যে জগৎ ও জীবনের রূপরহস্য সহস্রধারায় প্রকাশিত। 

‘হিন্দুমেলার উপহার’ নিজ নামে প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথের প্রথম কবিতা। ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রূয়ারি মাসে ‘অমৃতবাজার’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়। 

রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত কাব্য হলো ‘কবি-কাহিনী’, যা প্রকাশিত হয় ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে। 

আন্তর্জাতিকভাবে, গীতাঞ্জলি হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বাধিক পরিচিত কাব্যগ্রন্থ, যার জন্য তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছিলেন।

উপন্যাস: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস হলো করোনা। এর পর বিচিত্র অবলম্বনে প্রকাশিত হল তাঁর কালজয়ী ‘চোখের বালি’, ‘নৌকাডুবি ‘, ‘গোরা’,’ঘরে বাইরে’, ‘শেষের কবিতা’ প্রবৃতি উপন্যাস। 

ছোটগল্প: রবীন্দ্রনাথ বাংলা ছোট গল্পের শ্রেষ্ঠ রূপকার। তার গল্পের সংখ্যা ৯০টিরও বেশি। তার গল্পের মধ্যে বিখ্যাত ‘পোস্টমাস্টার’, ‘কাবুলিওয়ালা’, ‘অধ্যাপক’, ‘ছুটি’ ‘অতিথি’, ‘দেনাপাওনা’, ‘শাস্তি’, ‘হালদার গোষ্ঠী’, ‘রবিবার’, ‘মেঘ ও রৌদ্র’ প্রভৃতি গল্প। 

নাটক: রুদ্রচণ্ড রবীন্দ্রনাথের লেখা প্রথম নাটক। ‘ডাকঘর’, ‘রাজা’, ‘রক্তকরবী’ প্রভৃতি নাটকের মধ্য দিয়ে তিনি একদিকে মানবহৃদয়ে বিচিত্র ভূমিকা তুলে ধরেছিল।

এছাড়া তার আরও কিছু নাটক হলো – ‘রাজা ও রানী’, ‘বিসর্জন’, ‘মুক্তধারা’, ‘কালের যাত্রা’ ইত্যাদি।  

প্রবন্ধগ্রন্থ: চিন্তাশীল প্রবন্ধ রচনায় রবীন্দ্রনাথ অনন্যসাধারণ। তার উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ – ‘সাহিত্য’, ‘সাহিত্যের পথে’, ‘প্রাচীন সাহিত্য’, ‘লোকসাহিত্য’, ‘সাহিত্যের স্বরূপ’, ‘ধর্ম’, ‘শিক্ষা’, ‘আশ্রমের রূপ ও বিকাশ’ ইত্যাদি। 

সাহিত্যের আরও যেসব প্রকরণ আছে সেগুলিতেও রবীন্দ্রনাথ সিদ্ধহস্ত। পত্রসাহিত্য, ভ্রমণসাহিত্য, রম্য রচনা, সবগুলোতেই তিনি পারদর্শী। তার লেখা অজশ্র গান মানুষকে শক্তি দেয়।  

রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আজ পর্যন্ত যত পি.এইচ.ডি বা ডি.লিট ডিগ্রী হয়েছে আজ পর্যন্ত কোনো কবি বা সাহিত্যিককে নিয়ে হয় নি। তাঁর প্রায় সব গ্রন্থই ইংরেজি তে অনুবাদ করা হয়েছে।

Political Views –

রবীন্দ্রনাথ কেবল সাহিত্য সৃষ্টিই করেননি। তিনি ভারতীয় ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। 

তাইতো পুরাকালের তপোবনে আশ্রমের মতো ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে শান্তিনিকেতন মাত্র পাঁচজন ছাত্র নিয়ে ব্রম্মচর্য বিদ্যালয়ের সূচনা করেন। ছোট সেই বিদ্যালয় আজকের বিশ্ব বিখ্যাত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়।

আবার পরাধীন ভারতের নাগরিক হিসেবে তিনি ইংল্যান্ড শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখর হন। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে নিজেকে যুক্ত করেন। 

এরপর তিনি চালু করলেন রাখিবন্ধন উৎসব। তিনি রচনা করেন – ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ গানটি। 

আবার ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে ইংরেজ সরকারের দেওয়া ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ করেন। 

আরও পড়ুন: স্বামী বিবেকানন্দের জীবনী।  

Awards & Achievements Of Rabindranath Tagore –

  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের একমাত্র নোবেল জয়ী কবি। ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings-এর জন্য তিনি ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের ১৩ নভেম্বর এই পুরস্কারটি লাভ করেন।  
  • ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানিত ‘ডক্টরেট’ উপাধিতে ভূষিত করেন। 
  • ১৯১৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নাইটহুড দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি সেই উপাধি ত্যাগ করেন। 

Death Of Rabindranath Tagore –

জীবনের শেষভাগে রবীন্দ্রনাথ হয়ে পড়লেন বিষণ অসুস্থ। অসুস্থ অবস্থাতেও তিনি তার সাহিত্য রচনা চালিয়ে গেছেন। অবশেষে এল সেই দিন ১৯৪১ খিষ্টাব্দের ৭ আগস্ট (বাংলা ১৩৪৮, ২২ শ্রাবন), জীবনদীপ নিবে গেলো কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের।

রবীন্দ্রনাথ আমাদের গর্ব, তিনি ভারতবর্ষের আত্মা। তিনি দেশ ও জাতির মধ্যে তার স্মৃতি রেখে গেছেন।


আশা করি আপনি “Biography Of Rabindranath Tagore In Bengali আর্টিকেলটি পছন্দ করেছেন। যদি আপনার কাছে আর্টিকেল তা ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনার Social Media তে Share করোন। Regular Update এর জন্য আমাদের Facebook Page ফলো করোন।

Leave a Comment

0 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap