নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জীবনী | Subhash Chandra Bose Biography In Bengali

Netaji Subhash Chandra Bose Biography In Bengali. সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন ভারতের অন্যতম বৃহত্তম মুক্তিযোদ্ধা, যার মধ্যে অসাধারণ নেতৃত্বের দক্ষতা ছিল। সুভাষচন্দ্র যুব সমাজের প্রভাবশালী ছিলেন এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়, ভারতীয় জাতীয় সেনা (INA) প্রতিষ্ঠা করে তিনি “নেতাজি” উপাধি অর্জন করেছিলেন। যদিও তিনি প্রথমদিকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সাথে জোটবদ্ধ হয়েছিলেন, কিন্তু আদর্শের পার্থক্যের কারণে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

এই পোস্টে আপনি সম্পূর্ণ বিবরণ পাবেন Netaji Subhash Chandra Bose Biography In Bengali .

জন্ম: ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জানুয়ারি
জন্মের স্থান: কটক, ওড়িশা
পিতার নাম: জানকীনাথ বসু
মাতার নাম: প্রভাবতী দেবী
শিক্ষা: রাভেনশ কলেজিয়েট স্কুল, প্রেসিডেন্সি কলেজ, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়
সংগঠন: আজাদ হিন্দ ফৌজ / ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি(INA), ফরওয়ার্ড ব্লক
প্রকাশনা: The Indian Struggle (1920–1942)
মৃত্যু: ১৮ আগস্ট, ১৯৪৫ (অনুমান)

Early Life & Education Of Subhash Chandra Bose –

১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জানুয়ারি, ওড়িশার কটক শহরে সুভাষচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল। তাঁর পিতা জানকীনাথ বসু এবং মাতা প্রভাবতী দেবী। সুভাষচন্দ্রের পিতা জানকীনাথ বসু ছিলেন কটকের একজন ধনী ও সফল আইনজীবী। কটকের রাভেনশ কলেজিয়েট স্কুল থেকে সুভাষচন্দ্রের শিক্ষাজীবন শুরু হয়।

প্রবেশিকা পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে সম্মানের সঙ্গে উতীর্ণ হয়ে কলকাতা এসে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। সেই সময় প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক ছিলেন ওটেন সাহেব, তিনি প্রায় সময় বাঙালি ছাত্রদের অপমানিত করতেন এবং তখন সুভাষ চন্দ্র প্রতিবাদ করেন। ফলে তাকে কলেজ থেকে বহিস্কৃত করা হয়েছে। তারপর তিনি ভর্তি হন কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে, সেখান থেকে দর্শনশাস্ত্রে তিনি প্রথম শ্রেণির সাথে বিএ পাস করেন।

তিনি স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষাগুলি দ্বারা দুর্দান্তভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং তিনি বিবেকানন্দকে তাঁর আধ্যাত্মিক গুরু মানতেন। সুভাষচন্দ্রের পিতা চেয়েছিলেন সে একজন সরকারী কর্মচারী হয়ে উঠুক এবং তাই ভারতীয় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নিতে তাকে ইংল্যান্ডে পাঠিয়েছিলেন। সেই পরীক্ষায় তিনি চতুর্থ স্থান অর্জন করেছিলেন। কিন্তু তার স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নেওয়ার তীব্র আগ্রহ ছিল। সেজন্য ১৯২১ সালের এপ্রিল মাসে তিনি ভারতীয় সিভিল সার্ভিস থেকে পদত্যাগ করেন এবং ভারতে ফিরে আসেন।

বার্লিনে থাকাকালীন, সুভাষচন্দ্র একজন অস্ট্রিয়ান বংশোদ্ভূত এমিলি শেঙ্কেলের প্রেমে পড়েন। সুভাষ এবং এমিলি ১৯৩৭ সালে একটি গোপন হিন্দু অনুষ্ঠানে বিয়ে করেন। ১৯৪২ সালে এমিলি একটি মেয়ে সন্তান অনিতার জন্ম দেয়। 

Political Leadership Of Netaji Subhash Chandra Bose –

দেশে ফিরে সুভাষচন্দ্র যোগ দিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামে। প্রথমদিকে সুভাষচন্দ্র বসু কলকাতায় কংগ্রেসের একজন সক্রিয় সদস্য চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বে কাজ করেছিলেন। ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি হলেন কলকাতা কংগ্রেসে সেচ্ছাসেবক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। ১৯৩০ সালে তিনি নির্বাচিত হলেন কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র পদে।

সুভাষ চন্দ্র বসু ভারতের সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দৃশ্যকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু বিপরীতে কংগ্রেস কমিটি প্রথমদিকে ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাসের মাধ্যমে কিছু কিছু করে স্বাধীনতা চেয়েছিল, যা সুভাষচন্দ্রের মুটেও পছন্দ হয়নি। অহিংসার দ্বারা ব্রিটিশ শাসনের কাছ থেকে স্বাধীনতা, সুভাষচন্দ্র গান্ধীজির এই মতামতের বিরুদ্ধে ছিলেন।সুভাষ চন্দ্র বসু হিংস্র প্রতিরোধের সমর্থক ছিলেন। সুভাষচন্দ্র টানা দুইবারের জন্য কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে গান্ধী ও কংগ্রেসের সাথে তাঁর মতামতের বিভেদের জন্য তিনি পদত্যাগ করেছিলেন।

subhash chandra bose biography in bengali
Source: Wikipedia

তিনি অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন যা মহাত্মা গান্ধী শুরু করেছিলেন, যিনি আইএনসিকে(INC) একটি শক্তিশালী অহিংস সংগঠন হিসাবে পরিণত করেছিলেন। ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে সুভাষচন্দ্র অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং চিকিৎসার জন্য ইউরোপ গেলেন। সেখান থেকে ভারতে ফিরার পর তিনি ইংরেজদের হাতে বন্দি হলেন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরে তিনি “স্বরাজ” পত্রিকাটি শুরু করেন এবং বেঙ্গল কংগ্রেস কমিটির প্রচারের দায়িত্ব নেন।

Also Read: Satyajit Ray Biography In Bengali.

১৯৩৮ সালে তিনি হরিপুরা কংগ্রেসে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হলেন। কিন্তু অল্প সময়ের কংগ্রেসের অন্যান্য নেতারার সঙ্গে সুভাষচন্দ্ররের রাজনৈতিক মতানৈক্য ঘটল। তারপর ১৯৩৯ সালে পট্টভি সীতারামিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ত্রিপুরী কংগ্রেসে তিনি দ্বিতীয়বার কংগ্রেসের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন।

এর পরে তিনি ফোরওয়ার্ড ব্লক গঠন করেছিলেন, তবে দুর্ভাগ্যক্রমে এটি খুব বেশি সফল হয়নি। ব্রিটিশদের ভারত থেকে তাড়ানোর জন্য সুভাষচন্দ্র অস্ত্র বিপ্লবের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু ঠিক এই সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছিল। সুভাষ চন্দ্রকে ব্রিটিশ সরকার তার কোলকাতার বাড়িতে পুলিশ পাহারার দ্বারা আটক করে রেখেছিলো।

Formation Of Indian National Army(INA) –

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বের সময় কংগ্রেস ব্রিটিশদের সম্বর্ধনা দিয়েছিলেন, তাতে সুভাষচন্দ্র কংগ্রেসের তীব্র বিরোধিতা করেন। একটি গণআন্দোলন শুরু করার লক্ষ্যে তিনি সকল ভারতীয়দের অংশগ্রহণের জন্য কাছে ডেকেছিলেন। তিনি দেশবাসীকে বলেছিলেন ” তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব ” এবং এর জন্য ইংরেজরা তাকে কারাগারে বন্দী করেছিলেন। জেলে তিনি অনশন-প্রতিবাদে(Hunger-Strike) নেমেছিলেন এবং উপবাসের একাদশ দিনে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ার পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং তাকে গৃহবন্দী করা হয়। 

১৯৪১ সালের জানুয়ারি মাসে, সুভাষচন্দ্র জেল থেকে পালিয়ে জার্মানির বার্লিনে পৌঁছেছিলেন। জার্মানরা তার এই প্রচেষ্টায় তাকে তাদের পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। তারপর তিনি জাপানে পৌঁছেছিলেন, যেখানে তিনি সিঙ্গাপুর এবং অন্যান্য দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চল থেকে ৪০,০০০ সৈন্যকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তার এই সেনাবাহিনীকে Indian National Army (INA) নাম দিয়েছিলেন। তারপর তিনি তার সেনাবাহিনী নিয়ে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ দখল করার পরে মিয়ানমারের রাঙ্গুনে চলে গিয়েছিল। সেখানথেকে কোহিমা এবং ইম্ফলের সমভূমি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন।

subhash chandra bose biography in bengali

আজাদ হিন্দ ফৌজ “ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির” অপর একটি নাম। ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে আজাদ হিন্দ সরকার একযোগে যুদ্ধ ঘোষণা করল ব্রিটিশ এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে। সুভাষচন্দ্রের নির্দেশে আজাদ হিন্দ ফৌজ ভারতের ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরুদ্ধে আক্রমণ করলো। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে ভারতের মাটিতে উত্তোলিত হল জাতীয় পতাকা। আজাদ হিন্দ ফৌজ ভারতের জনগণের কাছে ঐক্যতা ও বীরত্বের প্রতীক হয়ে ওঠে।

“When we stand, the Azad Hind Fauz has to be like a wall of granite; when we march, the Azad Hind Fauz has to be like a steamroller.”

– Subhash Chandra Bose.

Death Of Subhash Chandra Bose –

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা পতন হল জাপানের এবং এই ব্রিটিশ শক্তির সঙ্গে যুদ্ধ করা সম্ভব ছিল না। তারপর তিনি সিঙ্গাপুরে চলে যান এবং সেখান থেকে বিমানে করে টোকিও যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। ১৯৪৫ সালের ১৭ আগস্ট তিনি সাইগন বিমানবন্দর থেকে একটি মিতসুবিশি কি-২১ বিমানটিতে চড়েছিলেন। পথিমধ্যে তাইহোকু বিমান বন্দরে বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে রটানো হলো, কিন্তু এই সম্পর্কে কোনো যুক্তিগ্রাহ্য প্রমান পাওয়া যায়নি।

নেতাজি ছিলেন বিশেষ ব্যক্তিত্বময় এক অসামান্য জননেতা। তার নেতৃত্বে সবাই বিশ্বাস করতে বার্দো হয়েছিল যে রাজনীতি ছাড়া যুদ্ধের মাধ্যমে ব্রিটিশদের কাছ থেকে দেশ স্বাধীন করা যাবে। যুদ্ধে হয়তো তিনি জয়লাভ করতে পারেনি কিন্তু তিনি যে সংগ্রামের আদর্শ রেখে গেছেন, তা তাকে সকল ভারতীয়দের মনে চিরজয়ী করে রেখেছে। তাঁর দেওয়া অনেকগুলি উক্তির মধ্যে অন্যতম উক্তি হল “স্বাধীনতা দেওয়া হয় না – নেওয়া হয়”।

আধুনিক ভারতে তিনিই সর্বপ্রথম ভারতবাসীর মধ্যে তথা আজাদ হিন্দ বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রদায়িক ঐক্য প্রতিষ্টা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর স্লোগান, ‘জয় হিন্দ’ এখনও দেশের শ্রদ্ধায় ব্যবহৃত হয়। তাঁর স্মরণে কলকাতার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে “নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর” নামকরণ করা হয়েছে।


আশা করি আপনি “Netaji Subhash Chandra Bose Biography In Bengali আর্টিকেলটি পছন্দ করেছেন। যদি আপনার কাছে আর্টিকেল তা ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনার Social Media তে Share করোন। Regular Update এর জন্য আমাদের Facebook Page ফলো করোন।

Leave a Comment

0 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap