Kazi Nazrul Islam Biography In Bengali | কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী

Kazi Nazrul Islam Biography In Bengali

কাজী নজরুল ইসলাম হল বাংলার একজন বিখ্যাত কবি, সংগীতশিল্পী, সাহিত্যিক এবং বিপ্লবী। বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসাবে তিনি সর্বাধিক পরিচিত ছিলেন। কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলার বিদ্রোহী কবি বলা হয়। 

ধর্ম ও মানবতার মতো বিষয় নিয়ে লেখা তাঁর কবিতা ও সংগীতের বিশাল সংগ্রহ, দেশবাসীর মনে বিদ্রোহের বাণী সঞ্চার করে দিয়েছিলো। পরাধীন ভারতবর্ষে তিনি যুবশক্তির মধ্যে এনে দিয়েছিলেন আশ্চর্য শক্তি ও প্রেরণা। 

তাঁর গানের সংগ্রহগুলি, ভারত এবং বাংলাদেশে নজরুল সংগীত (Nazrul Sangeet) নামে খুব জনপ্রিয়। 

সংগীত, সাহিত্য এবং শিল্প ক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলামের অবদানের জন্য ভারত সরকার তাকে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে “পদ্মভূষণ পুরষ্কার” দিয়ে ভূষিত করেন। 

এই পোস্টে আপনি সম্পূর্ণ বিবরণ পাবেন Kazi Nazrul Islam Biography In Bengali, About Kazi Nazrul Islam In Bengali, Kazi Nazrul Islam Jiboni.

জন্ম: ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মে
জন্মের স্থান: বর্ধমান জেলার অন্তগর্ত চুবুলিয়া গ্রামে
পিতার নাম: কাজী ফকির আহমদ
মাতার নাম: জাহেদা খাতুন
স্ত্রী: প্রমিলা দেবী
সন্তান: কৃষ্ণ মুহাম্মদ, অরিন্দম খালেদ, কাজী সব্যসাচী এবং কাজী অনিরুদ্ধ
মৃত্যু: ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯ আগস্ট

Birth & Childhood Of Kazi Nazrul Islam –

কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জৈষ্ট), বর্ধমান জেলার অন্তগর্ত চুবুলিয়া গ্রামে। তাঁর পিতার নাম কাজী ফকির আহমদ ও মাতার নাম জাহেদা খাতুন। 

মাত্র আট বছর বয়সে নজরুল পিতৃহীন হয়ে যাই, তাই বাল্যকাল থেকেই তার দারিদ্রের সঙ্গে কঠোর সংগ্রাম করতে হয়েছে। কিন্তু দুঃখ-দারিদ্র তার কাব্য সাধনায় বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি। 

দরিদ্র মুসলিম পরিবারের সন্তান নজরুল লেখাপড়ার বিশেষ সুযোগ বাল্যকালে পাননি। গ্রামের পাঠশালা ও মক্তবে তার শিক্ষাজীবন সূচনা হয়েছিল। এরপর তিনি পড়াশোনা করেন সিয়ারসোল রাজ হাই স্কুলে, মাথরুন উচ্চ ইংরেজি স্কুলে, এবং দরিরামপুর স্কুলে।

পড়তে পারেন: আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসুর জীবনী।

দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে বাঙালি পল্টনে নাম লিখিয়ে সৈনিকরূপে তিনি যুদ্ধে গেলেন। ইতিমধ্যে নজরুলের শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি এখানেই। সৈনিক রূপে করাচি বাসকালে বাংলার পত্রপত্রিকায় নিয়মিত কবিতা পাঠিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন বিশিষ্ট সমালোচক ও সাহিত্যরসিকদের। 

Literary Works Of Kazi Nazrul Islam –

১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা’য় প্রকাশিত হয় তার প্রথম কবিতা “মুক্তি”। এরপর থেকে নজরুল লেখালেখির ক্ষেত্রে আরও মনোযোগী হয়ে পড়েন।

১৯২১ খ্রিস্টাব্দে ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় নজরুলের “বিদ্রোহী” কবিতাটি। এই কবিতা রচনার পর থেকেই তার পরিচিত হল “বিদ্রোহী কবি” হিসেবে। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের অগাস্ট মাসে, তিনি ‘ধূমকেতু’ নামে তাঁর নিজস্ব ম্যাগাজিন শুরু করেছিলেন যা তাঁর বিপ্লবী কাজের জন্য নিখুঁত প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করেছিল।

ব্রিটিশ সরকার নজরুলকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ১৯৩৩ সালের জানুয়ারি মাসে গ্রেপ্তার করেন। কারাগারে থাকাকালীন নজরুল অনেকগুলি গান এবং কবিতা রচনা করেছিলেন, যা ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত হতে দেয়নি।

রচনা সমূহ: নজরুলের সাহিত্য জীবন শুরু হয় রচনার মধ্য দিয়ে। তাঁর লেখা কিছু অন্যতম রচনা হলো – ‘শকুনি বধ’, ‘মেঘনাথ বধ’, ‘আকবর বাদশাহ’, ‘দাতাকর্ণ’ ইত্যাদি। তারপর সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন তিনি লেখেন ‘রিক্তের বেদন’, ‘বাঁধনহারা’ প্রভৃতি রচনা।

কাব্য ও সংগীত গ্রন্থ: কবি নজরুল ইসলাম তার সাহিত্যজীবনে বেশ কিছু কাব্যগ্রন্থ ও সংগীতবিষয়ক রচনা করেছিলেন, এরমধ্যে অন্যতম – ‘অগ্নিবীণা’, ‘দোলনচাঁপা’, ‘বিষের বাঁশি’, ‘ভাঙার গান’, ‘সাম্যবাদী’, ‘নজরুল স্বরলিপি’, ‘ধূমকেতু’, ‘সন্ধ্যা’ ইত্যাদি। 

Kazi Nazrul Islam Biography In Bengali

উপন্যাস ও ছোটগল্প: নজরুলের লেখা উপন্যাস ও ছোট গল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – ‘বাঁধনহারা’, ‘কুহেলিকা’, ‘মৃত্যুক্ষুধা’, ‘রিক্তের বেদন’ প্রভৃতি। 

নাটক ও প্রবন্ধ: কাজী নজরুল ইসলামের লেখা কিছু বিখ্যাত নাটক হল ‘ঝিলিমিলি’, ‘আলেয়া’, ‘পুতুলের বিয়ে’ ইত্যাদি। প্রবন্ধের মধ্যে অন্যতম হল ‘যুগবাণী’, ‘দুর্দিনের যাত্রা’, ‘রুদ্রমঙ্গল’।  

সংগীত: তাঁর লেখা গান নজরুল গীতি রূপে প্রচলিত। অপূর্ব কথা এবং বিচিত্র সুরের সমম্বয়ে নজরুল গীতি আজও জনপ্রিয়। তার রচিত গানের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়া আর কোনো কবি এত বিচিত্র বিষয়ের উপর এত সংখ্যার গান রচনা করেননি।  

নজরুলের রচিত প্রতিটি কবিতা ও প্রবন্ধে আছে অসামান্য মানবপ্রীতি, অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সর্বহারা মানুষদের প্রতি গভীর ভালোবাসা। গভীর মানবপ্রীতিই তাকে করে তুলছে মানবতাবাদী। 

আরও পড়ুন: জীবনানন্দ দাশের জীবনী।

কবি ও সংগীত রচয়িতা হিসাবে নজরুলের সাফল্য তাকে ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে চলচ্চিত্র জগতের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। “ধ্রুব ভক্ত” চলচ্চিত্র পরিচালিত করে নজরুল হয়ে যাই প্রথম মুসলিম পরিচালক, যিনি একটি বাংলা চলচিত্র পরিচালিত করেছিলেন। তারপরে তিনি একটি চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালক হিসাবে কাজ করেছিলেন, যা রবীন্দ্রনাথের জনপ্রিয় উপন্যাস “গোরা” অবলম্বনে ছিল।

Married Life Of Kazi Nazrul Islam –

১৯২১ খ্রিস্টাব্দে নজরুল কুমিল্লায় যান। কুমিল্লার সেই সফরকালে নজরুল এক তরুণ হিন্দু মহিলা প্রমিলা দেবীকে পেয়েছিলেন, যার সাথে তিনি প্রেমে জড়িয়ে পড়েছিলেন। 

নজরুল তার ব্যক্তিত্ব, গানের প্রতি ভালবাসা এবং তার সংস্কৃত আচরণের জন্য প্রমীলার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। প্রমীলার সাথে তাঁর ভালবাসার নিদর্শন হিসাবে তিনি “বিজয়িনী” নামে একটি কবিতাও লিখেছিলেন।

১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ এপ্রিল, নজরুল ও প্রমীলা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের বিবাহ নিয়ে অনেকেই অনেক সমালোচনা করেন। এদিকে ব্রাহ্ম সমাজ প্রমীলা দেবীকে Criticize করেন একজন মুসলিম কে বিবাহ করার জন্য, অপরদিকে মুসলিম ধর্মীয় নেতারা নজরুলের Criticize করেছিলেন একজন হিন্দু মহিলা বিবাহ করার জন্য।

নজরুল ও প্রমীলার চারজন সন্তানের নাম – কৃষ্ণ মুহাম্মদ, অরিন্দম খালেদ, কাজী সব্যসাচী এবং কাজী অনিরুদ্ধ। 

Patriotism Of Kazi Nazrul Islam –

কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন প্রকৃত স্বদেশপ্রেমিক। ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে বার বার তিনি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। 

নজরুলের লেখা অসংখ্য কবিতার মধ্যে তাঁর স্বদেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যাই। হিন্দু মুসলিমের মিলনমন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। 

দেশকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছিলেন বলেই তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারেননি। প্রতিটি দলেই তিনি দেখেছিলেন শুধু সুবিধাবাদী রাজনীতি। কবি সর্বদা ভারতবর্ষের ঐক্যতার স্বপ্ন দেখেছিলেন।  

আরও পড়ুন: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী।

Awards & Achievement Of Kazi Nazrul Islam –

  • ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুল ইসলামকে ‘জগত্তারিণী’ পুরস্কার দেয়।  
  • ভারত সরকার কবিকে “পদ্মভূষণ” উপাধি দেয় ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে। 
  • ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে ‘রবীন্দ্রভারতী’ সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি দেন। 
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি দেন ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে এবং ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে নজরুলকে দেওয়া হয় বাংলাদেশের সর্বোচ সাহিত্যিক পুরস্কার ‘২১ শে পদক’।

Death Of Kazi Nazrul Islam –

নজরুলের শেষ জীবন খুবই মর্মান্তিক। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে চলেছিলেন তিনি। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে তিনি শক্তিরহিত হয়ে পড়েন। 

১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে থেকে কবির স্বাস্থ্য একেবারে স্তব্ধ হয়ে যান। রোগটি যে আসলে কি তাও ধরা পড়ল না সঠিকভাবে। কবিকে ভিয়েনায় পাঠানো হয়েছিল চিকিৎসার জন্য, কিন্তু সবই বৃথা। কবির স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে থাকে। 

অবশেষে ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯ আগস্ট, কবি তার শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে মসজিদের পাশে তাঁর মরদেহ সমাধি দেওয়া হয়। কবি ৭৭ বছর থেকে কিছুদিন বেশি বেঁচেছেন, এরমধ্যে শেষের বেশ কয়েকবছর কেটেছে অচেতনভাবে।

কবি নজরুল ইসলাম হয়তো চলে গেলেন, কিন্তু তাঁর লেখা প্রতি কবিতা ও গ্রন্থ আজও আমাদের মনে কবির স্মৃতি লিখেছে। 


আশা করি আপনি “Kazi Nazrul Islam Biography In Bengali আর্টিকেলটি পছন্দ করেছেন। যদি আপনার কাছে আর্টিকেল তা ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনার Social Media তে Share করোন। Regular Update এর জন্য আমাদের Facebook Page ফলো করোন।

Leave a Comment

0 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap