Biography Of Ishwar Chandra Vidyasagar In Bengali | ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী

Biography Of Ishwar Chandra Vidyasagar In Bengali. ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন বাংলার নবজাগরণের অন্যতম মহানমানুষ, যিনি রাজা রামমোহন রায়ের দ্বারা গঠিত সামাজিক সংস্কার আন্দোলন চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন। তিনি ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত ভাষায় একটি জ্ঞান পরীক্ষার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন এবং সেখানে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি অর্জন করেছিলেন। তারপর থেকে তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নামে পরিচিত।

তাঁর লেখা ‘বর্ণ পরিচয়’ বই এখনও বাংলা বর্ণমালা শেখার জন্য প্রাথমিকস্তরে ব্যবহার হয়। বিদ্যাসাগর ছিলেন একজন প্রখ্যাত লেখক, বুদ্ধিজীবী এবং মানবতার কট্টর সমর্থক। তিনি বাংলা শিক্ষাব্যবস্থায় একটি বিশেষ পরিবর্তন ঘটিয়েছিলেন।

এই পোস্টে আপনি সম্পূর্ণ বিবরণ পাবেন Biography Of Ishwar Chandra Vidyasagar In Bengali .

জন্ম: ১৮২০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ সেপ্টেম্বর
জন্মের স্থান: পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে
পিতার নাম: ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
মাতার নাম: ভগবতী দেবী
শিক্ষা: সংস্কৃত কলেজ কলকাতা
স্ত্রী: দিনমণি দেবী
সন্তান: নারায়ণ চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
মৃত্যু: ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দের ২৯ জুলাই

Childhood & Early Life Of Ishwar Chandra Vidyasagar –

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ সেপ্টেম্বর, পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেছিল। তাঁর পিতা, ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা ভগবতী দেবী ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক লোক।

ঈশ্বরচন্দ্র একজন মেধাবী ছাত্র ছিল। তাঁর গ্রামের পাঠশালায় তিনি সংস্কৃতের মৌলিক বিষয়গুলি শিখেছিলেন এবং তারপরে ১৮২৬ সালে তিনি তাঁর বাবার সাথে কলকাতায় যাত্রা শুরু করেন। বলা হয় যে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কলকাতায যাওয়ার পথে মাইলস্টোনের লেবেল অনুসরণ করে ইংরেজি সংখ্যা শিখতেন। রাতের বেলা তিনি রাস্তার লাইটের নীচে বসে পড়াশোনা করতেন। বিদ্যাসাগর চৌদ্দ বছর বয়সে দিনমণি দেবীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং এই দম্পতির একটি পুত্র হয় নাম ছিল নারায়ণ চন্দ্র।

তিনি ১৮২৯ থেকে ১৮৪১ এর মধ্যে সংস্কৃত কলেজ থেকে বেদনা, ব্যাকরণ, সাহিত্য, স্মৃতি এবং নীতিশাস্ত্র শিখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ঈশ্বরচন্দ্র তার পরিবারের আর্থিক অবস্থাকে সমর্থন করার জন্য একটি স্কুলে শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ১৮৪১ সালে,ঈশ্বরচন্দ্র একুশ বছর বয়সে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সংস্কৃত বিভাগে প্রধান পন্ডিত হিসাবে যোগদান করেছিলেন। পাঁচ বছর পর, ১৮৪৬ সালে তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ছেড়ে সংস্কৃত কলেজে ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি’ হিসাবে যোগদান করেন।

Social Works Of Ishwar Chandra In Student Life –

বিদ্যাসাগর যখন সংস্কৃত কলেজের ছাত্র ছিলেন তখন তিনি ডিরোজিওর প্রগতিচিন্তার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। হিন্দু সমাজের প্রচলিত কুপ্রথা সম্পর্কে ডিরোজিওর ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নজন প্রশ্ন তুলেছেন, এরমধ্যে একজন ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র। অক্ষয়কুমার দত্তের “বিদ্যাদর্শনে” বহুবিবাহ নিয়ে, মতিলাল চট্টোপাধ্যায়ের “সর্বশুভকরী” পত্রিকায় বাল্যবিবাহ নিয়ে একাদিক প্রবন্দ লেখা হয়।

সর্বশুভকরী পত্রিকায় প্রকাশিত প্রথম প্রবন্দটি লিখেছিলেন বিদ্যাসাগর নিজেই। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রবন্ধটি প্রকাশের পর বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে প্রবন্দ প্রকাশ, সভাসমিতিতে আলোচনা যথেষ্ট বেড়ে যাই। তারপর ঢাকায় স্থাপিত হয় “বাল্যবিবাহ নিবারণী সভা”। এইসবকিছু ঘটার পর মানুষ সচেতন হয়, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত হয়।

ishwar chandra vidyasagar biography
Image Credit – Wikipedia

বিদ্যাসাগর বাংলা বর্ণমালাকে পুনর্গঠন করেছিলেন, এবং ১২টি স্বর ও ৪০টি ব্যঞ্জনে রূপান্তর করেছিলেন। বিদ্যাসাগর বাংলা ও সংস্কৃত সাহিত্যেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তিনি অনেকগুলো বইও লিখেছিলেন যেমন বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭), বাংলার ইতিহাস (১৮৪৮),জীবনচরিত (১৮৫০), বোধোদয় (১৮৫১), উপক্রমণিকা (১৮৫১), শকুন্তলা (১৮৫৫)। 

Contribution In Widow Remarriage Act –

বিধবাদের দুঃখময় জীবন বিদ্যাসাগরকে প্রবলভাবে আঘাত করত। এইসময়ে আরও অনেকেই বিধবাবিবাহের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অনেক ভেবেছিলেন। বিদ্যাসাগর প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি বিধবাবিবাহের কাজে সফল হয়েছিলেন এবং তাঁকে সমর্থন করেছিলেন ব্রাম্মসমাজ, ইয়ং বেঙ্গলও।

এই সম্পর্কে বিদ্যাসাগর একটি পুস্তিকা রচনা করলেন “বিধবাবিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কি না এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব”, যা প্রকাশিত হয় ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে এবং তা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় প্রবল আলোচনা। তারপর অনেকেই নেমে পরে বিরোধিতায় এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যাসাগর-বক্তব্য নস্যাৎ করে প্রকাশিত হয় একাধিক পুস্তিকা। সেইসব যুক্তিহীন আক্রমণের জবাব দিতে আবার কলম ধরতে হয় বিদ্যাসাগরের এবং লেখেন আরো একটি পুস্তিকা, “বিধবাবিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কি না এতদ্বিষয়ক দ্বিতীয় প্রস্তাব”।

Social Reforms & Movements –

বিদ্যাসাগর অনুভব করেছিলেন জনমত গঠন করতে গিয়ে বার বার আসবে নানা আক্রমণ, সুতরাং প্রথমে সরকারী আইনের মাধ্যমে বিধবা বিবাহের বৈধতা স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। তাই হাজারখানেক মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে তিনি বিধবাবিবাহের আইন-খসড়া পাঠালেন ভারত সরকারের কাছে। এর ফলে বিধবাবিবাহের বিরোধীরা হয়ে উঠল আরও আক্রমণাত্মক এবং তারাও তাদের বক্তব্য পেশ করল সরকারের কাছে।

প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও লর্ড ক্যানিং-এর প্রস্তাবে বিধবাবিবাহের আইন পাস হয়, ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুলাই। বিধবাবিবাহ বিরোধী মানুষজনের তুলনায় সমর্থকের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। তাই এই আইন প্রণয়নের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে সাড়া পরে যাই।

“The life without suffering is like a boat without a sailor, in which there is no discretion of itself, it also moves in a light breeze”
– Ishwar Chandra Vidyasagar

বিধবাবিবাহের আইন পাস হওয়ার পর বিদ্যাসাগরের অনেক জয়ধ্বনি শুনা যায়। এমনকি শান্তিপুরের তাঁতিরা ‘বিদ্যাসাগর-পেড়ে’ কাপড় বুনে এক অভিনব সন্মানজ্ঞাপন করেন বিদ্যাসাগকে। সেই কাপড়ের পাড়ে লেখা থাকত, ‘বেঁচে থাক বিদ্যাসাগর চিরজীবী হয়ে/সদরে করেছে রিপোর্ট বিধবাদের হবে বিয়ে’। ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে তিনি নিজপুত্র নারায়ণচন্দ্রের সঙ্গে জনৈকা বিধবার বিবাহ অনুমোদন করেন। এ ছাড়া হিন্দু বিধবাদের দুরবস্থা থেকে বাঁচানোর জন্য ‘হিন্দু ফ্যামিলি আনুইটি ফান্ড’ তিনি প্রতিষ্টা করেন।

বিধবাবিবাহ আইন পাস হওয়ার দুমাস পরেই বিদ্যাসাগর বহুবিবাহ বন্ধ করার জন্য সকারের কাছে আবেদন করেন। বহুবিবাহের বিরুদ্ধে বিল আনার জন্য বিডন সাহেব ভারত সরকারের অনুমোদন চেয়েছিলেন। কিন্তু ভারত সরকার সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে গঠন করেন এক তদন্ত কমিটি। এই কমিটিতে ছিলেন কয়েকজন ইংরেজ, বিদ্যাসাগর সহ দেশের কিছু পন্ডিত এবং কিছু বিচক্ষণ ব্যক্তি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলো না।

এই কমিটির অনেকেই বহুবিবাহের বন্ধের গুরুত্বই উপলব্ধি করতে পারলেন না। তাই বিদ্যাসাগর তার বক্তব্য জানাবার জন্য কলম ধরলেন। ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে তিনি লিখলেন অভ্রান্ত যুক্তি, নির্ভুল তথ্য ও বিশ্লেষণসমৃদ্ধ এক পুস্তিকা, ”বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কি না এতদ্বিষয়ক বিচার”। পুস্তিকাটি প্রকাশ মাত্রই জনমতে সাড়া পড়ে যায়।

Also Read – Netaji Subhash Chandra Bose Biography In Bengali.

Establishment Of Schools For Girls –

ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে শিক্ষার আলো সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে ডেভিড হেয়ার, বেথুন বা ডিরোজিওরা যে চেষ্টা করেছিল, তা পরবর্তীকালে বিদ্যাসাগরের নেতৃত্বে যথেষ্ট জোরালো হয়ে উঠে। বিদ্যাসাগর নিজেই প্রয়োজনীয় গ্রন্থ রচনা করেছেন, শিক্ষার গুরুত্ব সাধারণ মানুষকে বুঝিয়েছেন।

শিক্ষা বিস্তারে, বিশেষত স্ত্রীশিক্ষা প্রসারে বিদ্যাসাগরের অবদান অবিস্মরনীয়। ১৮৫৭ সালের নভেম্বর থেকে ১৮৫৮ সালের মে মাসের মধ্যে বিদ্যাসাগর পঁয়ত্রিশটি বালিকে বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন। এই বিদ্যালয়গুলির জন্য মাসে ফি খরচ হত আটশো পঁয়তাল্লিশ টাকা। পঁয়ত্রিশটি বিদ্যালয়ের সব মিলিয়ে ছাত্রীসংখ্যা ছিল এক হাজার তিনশো।

বিদ্যালয় গুলো চালানোর জন্য সরকারের কাছে সাহায্য চাইলেন বিদ্যাসাগর কিন্তু তাতে ব্যর্থ হলেন তিনি। তবুও থেমে থাকেনি তিনি এবং সাহায্যের জন্য আবেদন জানালেন দেশবাসীর কাছে। দেশবাসীর কাছথেকে কিছু সমর্থন পেলেন তিনি।

Death Of Ishwar Chandra Vidyasagar –

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দের ২৯ জুলাই, ৭০ বছর বয়সে তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে সম্মান জানাতে কলকাতায় বিখ্যাত গণিতজ্ঞ অনিল কুমার গেইন প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়’। তিনি হয়তো চলে গেছেন কিন্তু তার অবদান আমরা কখনো ভুলবো না।

You May Also Like – Swami Vivekananda Biography in Bengali.


আশা করি আপনি “Biography Of Ishwar Chandra Vidyasagar In Bengali আর্টিকেলটি পছন্দ করেছেন। যদি আপনার কাছে আর্টিকেল তা ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনার Social Media তে Share করোন। Regular Update এর জন্য আমাদের Facebook Page ফলো করোন।

Leave a Comment

0 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap